

তানিম আহমদঃ
সিলেটের জকিগঞ্জে এবছর সবুজ মাল্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। এছাড়া ফলন ভালো হওয়ায় চাষিদের মুখেও দেখা গেছে তৃপ্তির হাসি। চলতি বছর ৬ কোটি টাকার মাল্টা বিক্রি হবে বলে আশাবাদ জকিগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের। অনুকূল আবহাওয়া ও উপযোগী পরিবেশ থাকায় প্রতি বছরই বাড়ছে মাল্টার চাষ। প্রতি বছরই নতুন চাষিরা মাল্টার বাগান করতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
জকিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জকিগঞ্জে ৩৭ হেক্টর জমিতে সবুজ মাল্টার চাষ করা হয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে উপজেলায় মাল্টার আবাদ শুরু হয়। ফলন ভালো হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে মাল্টার চাষ। তবে জকিগঞ্জে বারি মাল্টা-১ জাতের চাষই বেশি হয়।
জকিগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টার চাষ শুরু হয় ২০১৫ সালে। বর্তমানে উপজেলার সুলতানপুর, কাজলসার, বারঠাকুরী ও বারহাল ইউনিয়নের গ্রামের বাড়ির আঙ্গিনা ও সমতল ভূমিতে মাল্টার বাগান করা হয়েছে। এই উপজেলায় চলতি বছর ৩৭ হেক্টর জমিতে সবুজ মাল্টার চাষ করা হয়েছে। উপজেলায় রয়েছে ছোট বড় মিলিয়ে অর্ধশতাধিক মাল্টার বাগান। বাগানগুলোতে গাছে গাছে সবুজ পাতার আড়ালে ডালে ডালে ঝুলছে সবুজ মাল্টা। গাছে গাছে সবুজ মাল্টা পথচারীদের নজর কাড়ছে। মাল্টার বাম্পার ফলনে চাষিরাও খুশি।
উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের মজলী গ্রামের চাষি মইন উদ্দিন জানান, তিনি সাড়ে সাত বিঘা জায়গায় মাল্টার বাগান করেছেন। ৫ বছর আগে ৫০০ টি মাল্টা চারা দিয়ে বাগান শুরু করেন বর্তমানে তার বাগানে হাজারের বেশি মাল্টা ও কমলা গাছ রয়েছে।
তিনি বলেন, সব গুলো গাছে পরিপূর্ণভাবে ফলন ধরেছে। তার বাগানে দেখা যায় প্রতিটি গাছের থোকায় থোকায় মাল্টা ধরে আছে। মাল্টার ভারে গাছগুলো মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, নিয়মিত পরিচর্যা করছি। রবিবার র্পযন্ত লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছি। আশা করছি ১৩-১৪ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবো।
হালঘাট গ্রামের হাজী আছাব আলী ও ইছাপুর গ্রামের আনহারুল ইসলাম বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার তাদের বাগানে ফলন ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা আসতে শুরু করেছেন। এছাড়াও অনেকে শখের বসে পরিবার নিয়ে ঘুরতে গিয়ে মাল্টা কিনছেন। আরো বলেন, জকিগঞ্জের কিছু ব্যবসায়ী বিভিন্ন জেলা থেকে মাল্টা এনে তাদের বাগানের মাল্টা বলে বাজারে কম দমে বিক্রি করছে। এসব মাল্টার গুণগত মান আর আমাদের মাল্টার মান দিন রাত পার্থক্য, ক্রেতাগণ বাগানে নিজ হাতে পেড়ে খেয়ে তারপর ক্রয় করতে পারেন।
জকিগঞ্জ বাজারের ফার্মেসী ব্যবসায়ী আব্দুছ ছবুর বলেন, বাজারের মাল্টা আর বাগানের মাল্টার মধ্যে দিনরাত পার্থক্য। মইন উদ্দিন ভাইয়ের বাগানে এসে নিজ হাতে পেড়ে মাল্টা খেয়ে বিষয়টি বুঝতে পারলাম। বাজারের মাল্টা গুলো এতটা রসালো বা মিষ্টি হয় না।
জকিগঞ্জ উপজেলা কৃষি র্কমর্কতা মোঃ আব্দুল মুমিন বলেন, চলতি বছর উপজেলায় ৩৭ হেক্টর জমিতে সবুজ মাল্টার চাষ করা হয়েছে। এসব বাগানে ৬ কোটি টাকারও বেশি বিক্রি হবে বলে আশা করছি। তিনি বলেন, আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত মনিটরিং করছি। মাল্টা চাষ জনপ্রিয় করে তুলতে বিভিন্ন সময় প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করি।