সিলেটের হরিপুরে যুবদল নেতার পিতাকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা নেয়নি পুলিশ

Daily Daily

Zakiganj

প্রকাশিত: ৩:২৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৫

সিলেট জেলা ছাত্রদলের পাঠাগার সম্পাদক মো. শাহজাহানের পিতা বশির মিয়াকে (৬০) পিটিয়ে হত্যা করেছে আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতারা। গত শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, সিলেটে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে মামলায় সাবেক চার মন্ত্রী-এমপি ও মেয়রসহ ৪৭৭জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামীদের সবাই আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যয়ের নেতাকর্মী। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার আন্দোলন হামলার সাড়ে ৬ মাসের মাথায় আদালতের নির্দেশে সিলেট নগরীর কোতোয়ালি থানায় এ মামলাটি রেকর্ড করা হয়। ১৯০৮ইং সনের অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের ৩/৪ তৎসহ ৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৪ দণ্ডবিধির ধারায় ৩ ফেব্রুয়ারি রেকর্ড হওয়া এ মামলার বাদি সিলেট জেলা যুবদলের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও মোগলাবাজার থানার মির্জাপুর গ্রামের মো. নামর আলীর ছেলে সাজিব আহমদ। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা দাবি করে লন্ডনে বসে মো. শাহজাহান এই মামলা দায়ের করিয়েছে। এর জেরে এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবদল নেতা শাহজাহানের উপর ক্ষীপ্ত হয়ে রোববার রাতে শাহজাহানের বাড়িতে আওয়ামীলীগ নেতা রফিক আহমদ ও যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন ও যুবলীগ নেতা শাহিনুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। শাহজাহানকে না পেয়ে তারা তাঁর পিতা বশির মিয়াকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে হরিপুর হাইওয়ে রোডের পাশে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান শরীরে অতিরিক্ত আঘাতের ফলে তিনি মৃতুবরণ করেছেন।

এই ঘটনায় জৈন্তাপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করার জন্য বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও আওয়ামীলীগের মদদপুষ্ট পুলিশ তা আমলে নেয়নি।

স্থানীয়রা জানায়, ৫ আগস্টের আগে বর্তমান চেয়ারম্যান রফিক ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেনের দাপটে অতিষ্ট ছিল এলাকাবাসী। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রথমে খানিকটা চুপসে গেলেও জামায়াতের স্থানীয় কতিপয় নেতার সঙ্গে মিলেমিশে দাপট অব্যাহত রেখেছে এসব নেতারা। এই ঘটনার সাথে সরাসরি যুক্ত আছেন সাবেক জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন।

এই ঘটনায় মো. শাহজাহান গণমাধ্যমকে বলেন, তাঁর পিতাকে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করতে বেশ কয়েকবার থানায় যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও আওয়ামীলীগের মদদপুষ্ট পুলিশ তা আমলে নেয়নি। শাহজাহান আরো বলেন, ৫ আগষ্টের পরে তার আপন বড় ভাইকে অপহরণ করে স্থানীয় আওয়ামীলীগের গুণ্ডাবাহিনি। তারপর তারা মুক্তিপন দাবি করে বিশাল অংকের টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেয়। এই ঘটনার পরে সে ভয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। আজও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।